Untitled-7 copy

মাদরাসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

১.

এলমে ওহী ও এলমে নবুয়তের জ্ঞান চর্চার লক্ষ্যে কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ফিকাহ, আকাইদ, কালাম, তাসাউফ এর শিক্ষাদান এবং এ সকল বিষয়ের জন্য সহায়ক বিষয়গুলো যথা উসুলে তাফসীর, উসুলে হাদীস উসুলে ফিকাহ, আরবি সাহিত্য, এলমে নাহু, এলমে সরফ, এলমে বালাগাত, এলমে হেকমাত এবং ফালসাবা বা তর্ক শাস্ত্র, সমাজ, বিজ্ঞান, বাংলা, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, কম্পিউটার, শারীরিক শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ের শিক্ষা দান।

২.

শিক্ষার্থীরা যাতে জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ ভাবে সুন্নতের অনুসারী এবং আকাবীর ও আসলাফের আদর্শ ও চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় তরবিয়তের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছাত্রদেরকে আদর্শ চরিত্রবান, ভদ্র ও সমাজ সচেতন নাগরিক রূপে গড়ে তোলার বাস্তব প্রশিক্ষণ দান।

৩.

শিক্ষার্থীরা যাতে সর্বক্ষেত্রে দ্বীনের প্রচার প্রসারে আত্মনিয়োগ করতে পারে, তাদেরকে ভাষা সাহিত্য লেখায়, বক্তৃতায়, দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে পারদর্শী করে গড়ে তোলা।

৪.

ইসলামী আদর্শ তাহযীব ও তামাদ্দুনের ব্যাপক প্রচার প্রসারের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহমুখী ও আল্লাহর দ্বীনের অনুসারী করে গড়ে তোলার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা, সমাজের সকল মানুষের ঈমান আক্বীদা সংরক্ষণের যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং সকল প্রকার বাতিল মতবাদ সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা।

৫.

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করার জন্য সমাজে সর্বস্তরের মানুষের নিকট দ্বীনের দাওয়াত ও প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন কামিয়াবী অর্জন করা।

৬.

ছাত্রদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যহত না হয় এমন ধরনের অর্থকরী ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

মাদরাসার আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশিষ্ট্য সমূহ

১। প্রত্যেক ছাত্রকে দ্বীনের দায়ী এবং আল্লাহ ওয়ালা হওয়ার জন্য বিশেষভাবে মেহনত করা হয়।
২। প্রত্যেক ছাত্রকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাত এর উপর জীবন যাপন করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৩। প্রত্যেক ছাত্রকে সাহাবীদের নকশে কদম চলার জন্য বিশেষভাবে চেষ্টা করা হয়।
৪। আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক দ্বারা শিক্ষাদান করা হয়।
৫। আকাবিরে দেওবন্দের অনুসারে দাওয়াত, তালিম ও তরবিয়াতের সমন্বিত প্রয়াস।
৬। আরবি, ইংরেজি, উর্দু ও বাংলা ভাষার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্বরোপ করা হয়।
৭। প্রহার নয়-সহানুভুতি ও আন্তরিকতার মাধ্যমে পড়াশোনা করানো হয়।
৮। নবীর আদর্শের আলোকে ছাত্র গঠন করা।
৯। ২৪ঘন্টা নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।
১০। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানোর সু-ব্যবস্থা রয়েছে।
১১। আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
১২। কম্পিউটার ল্যাবের সু-ব্যবস্থা।
১৩। ক্লাস টেন পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষার ব্যবস্থা।
১৪। ২৪ ঘন্টা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মাদরাসায় নেগরানি করা হয়।
১৫। মাদরাসার পুরো ক্যাম্পাস শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
১৬। আইপিএস এবং জেনারেটরের সু-ব্যবস্থা।
১৭। হামদ-নাত এবং ইসলামিক গজল ও ইসলামি সঙ্গীত শিখানো হয়।
১৮। মাদরাসার ফারেগ ছাত্রদের বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করার ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে দারুল উলুম দেওবন্দ ভারত, দারুল উলুম করাচি পাকিস্তান, জামিয়াতুল আজহার মিশর, মদিনা ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব, উম্মুল কুরা, ইউনিভার্সিটি মক্কা, জামিয়াতুল খুরতুম সুদান।
১৯। প্রত্যেক ছাত্রকে দাঈ হবার জন্য প্র্যাকটিক্যাল ভাবে মেহনত করানো হয়।
২০। গরীব, এতিম, অসহায় ছাত্রদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
২১। পুরা দুনিয়াতে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ পরিচালনা করার জন্য বিশেষভাবে মেহনত করা হয়।
২২। আমাদের মাদরাসার কোন ছাত্রকে আলাদাভাবে কোন প্রাইভেট বা কোন কোচিং করতে হয় না।
২৩। আমাদের মাদরাসায় প্রত্যেকে ছাত্রকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করানো হয়।
২৪। অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য গাড়ীর সু-ব্যবস্থা।
২৫। প্রত্যেক মাসে ছাত্রদের গার্ডিয়ানদের মিটিংয়ের ব্যবস্থা।
২৬। প্রত্যেক ছাত্র এবং শিক্ষকদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা।
২৭। আবাসিক ছাত্রদেরকে মাদরাসার পক্ষ থেকে চার বেলা মানসম্পন্ন খাবারের সু-ব্যবস্থা।
২৮। সাপ্তাহিক/মাসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা।
২৯। এলমে নাহু, এলমে সরফ, এলমে মানতেক, এলমে বালাগাত অর্থাৎ উলুমে আকলিয়ার উপর বিশেষ মেহনত।
৩০। তরজামাতুল কুরআনের উপর বিশেষ মেহনত করানো হয়।
৩১। হিফজুল কুরআনের পাশাপাশি তরজমাতুল কুরআন এবং হাদীস, মাসআলা মাসায়েলের উপর বিশেষ মেহনত করানো হয়।
৩২। প্রত্যেক মাসে ২৪ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক সবগুজারি, প্রতি রমজানে বার্ষিক পরীক্ষার পর ৪০ দিনের জন্য আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াত ও তাবলিগে সময় লাগানোর সু-ব্যবস্থা।
৩৩। প্রত্যেক ছাত্র, শিক্ষক, স্টাফ সব ধরনের রাজনীতি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
৩৪। ছাত্রদের কোন ধরনের মারপিট, গালাগালি এবং শরীয়ত বিরোধী কোন আচরণ করা হয় না।
৩৫। প্রত্যেক মাসে ছাত্র/শিক্ষকের তরবিয়তী ইজলাসের ব্যবস্থা।
৩৬। ছাত্রদের প্রত্যেক দিন আছরের পর খেলাধুলা এবং শরীর চর্চার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা।
৩৭। বাৎসরিক, আন্তর্জাতিক ইসলাহি ইজতেমার ব্যবস্থা আছে।
৩৮। ছাত্র এবং শিক্ষকের ইসলাহে নফসের জন্য অর্থাৎ আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষ মেহনত করানো হয়।
৩৯। এতিম, অসহায়, গরীব ছাত্রদের খাওয়া, দাওয়া, চিকিৎসা, পোশাক, লেখাপড়া সহ সকল ধরনের খরচ মাদরাসার পক্ষ থেকে ফ্রি ব্যবস্থা করা হয়।
৪০। আখলাকে হাসানাহ এর উপর বিশেষ মেহনত করানো হয়।
৪১। অফলাইন এবং অনলাইন দুনোভাবেই ভর্তি এবং মাদরাসার সকল ধরনের কাজ আঞ্জাম দেওয়া হয়।
৪২। মাদরাসার আবাসিক ছাত্ররা মাদরাসার ক্যাম্পাস ব্যতীত অন্য কোথাও রাত্রিযাপন করতে পারবে না।
৪৩। বিদেশী ছাত্রদের লেখাপড়ার সু-ব্যবস্থা আছে।
৪৪। সুন্দর হাতের লেখার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করানো হয়।
৪৫। মেধা দূর্বল ও অমনোযোগী ছাত্রদেরকে সহজভাবে শিক্ষা দীক্ষা দেওয়ার সু-কৌশলী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৪৬। যুগশ্রেষ্ঠ আলেম উলামা ও বিজ্ঞ ব্যক্তিগণের পরামর্শের আলোকে পরিচালিত।